৮৩ বছরেও বয়স্কভাতার কার্ড পাননি তিনি

বয়সের ভারে ন্যুব্জ শান্ত রানি মন্ডল। বার্ধক্যজনিত কারণে দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে-শোকে ভুগছেন তিনি। বয়স ৮৩ বছর। চিকিৎসা তো দূরের কথা তিনবেলা খাবার জোটানো তার জন্য কষ্টকর। জীবনের শেষ সময়ে একটু সচ্ছলতার আশায় বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য ধরনা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস পেলেও ভাতার কার্ড মেলেনি।

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা শান্ত রানি মন্ডল। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (৯৩১৭৬৬৫১৪৩৫৩২)। জন্ম তারিখ ১৯৩৭ সালের ২১ মার্চ। বর্তমানে তার বয়স ৮৩ বছর।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্কভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২ আর পুরুষের সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী বয়স্কভাতার কার্ড পাওয়ার যোগ্য হয়েও পাননি ওই বৃদ্ধা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্ত রানি মন্ডলের স্বামী অনন্ত চন্দ্র মন্ডল তিন বছর আগে মারা যান। সহায়-সম্পদ বলতে স্বামীর রেখে যাওয়া একখণ্ড ভিটা ছাড়া তেমন কিছু নেই তার। যার অর্ধেকের বেশিই ধলেশ্বরী নদীতে বিলীন। দুই ছেলে ও চার মেয়ের জননী শান্ত রানি। সন্তানরা পৃথক হওয়ায় এখন ছোট ছেলে গণেশ চন্দ্র মন্ডলের বাড়িতে থাকেন তিনি।

শান্ত রানি মন্ডল বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি ছোট ছেলের কাছে থাকি। ওদিকে নদীতে বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে আমার। অন্য ছেলে-মেয়েরা আমার খোঁজখবর রাখে না। স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে কোনোরকম কষ্ট করে চলে ছোট ছেলে। তার ওপর আমারে চালাতে তাদের কষ্ট হয়। স্বামী মারা যাওয়ার পর খুব কষ্টে আছি আমি। অসুস্থ হলে ঠিকমতো ওষুধ কিনে খেতে পারি না। আর কতদিন বাঁচব বলতে পারি না। একটু খেয়ে-পরে বাঁচার জন্য অনেকবার চেয়ারম্যান-মেম্বারের কাছে বয়স্কভাতার কার্ডের জন্য গেছি। সবাই কথা দিয়েছে দেবে। কিন্তু দেয়নি কেউ।

শান্ত রানির পুত্রবধূ মায়া রানি মন্ডল বলেন, করোনায় উপার্জন বন্ধ আমার স্বামীর। ধারদেনা করে খুব কষ্টে চলছি আমরা। তার ওপর নদীর ভাঙন। এর মধ্যে অসুস্থ শাশুড়িকে ওষুধ ও খাবার-দাবার দিতে হয়। বয়স হয়ে যাওয়ায় সবসময়ই অসুস্থ থাকেন শাশুড়ি। বয়স্কভাতার একটা কার্ড পেলে খুব উপকার হতো শাশুড়ির।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান কোকা বলেন, কয়েক মাস আগে শান্ত রানি মন্ডলসহ কয়েকজন বয়স্ক নারী এসেছিল। সীমিত কার্ড থাকায় সবাইকে দেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তাকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেব বলেছি।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম বলেন, বয়স্ক ওই নারী নাগরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে তাকে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেয়ার ব্যবস্থা করব।


Best bangla site

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *