তালতলীতো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল কার্যক্রমের দাবীতে ১০ টি স্থানে মানববন্ধন

রেজাউল করিম,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি :: বরগুনার তালতলী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের কার্যক্রমের দাবীতে একযোগে উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ ১০টি স্থানে একযোগে অন্তত অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে। সোমবার সকাল ১১ টায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ বৃষ্টি উপক্ষো করে এ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতে অংশগ্রহন করে।

২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তালতলী থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করেন। তালতলী থানা থেকে উপজেলায় রুপান্তিত হওয়ার ৮ বছরেও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। এখানে হাসপাতালের জন্য শুধু একটি ভবন নির্মান করা হয়েছে। এখানে আন্ত:বিভাগ, বহি:বিভাগ কোন কিছুই চালু নেই। নেই কোন ওষুধ বরাদ্দ। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে বরাদ্দ করা ওষুদ দিয়ে চলে তালতলী বাসীর স্বাস্থ্য সেবা। দীর্ঘ ৮ বছরেও তালতলীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় ফুসে উঠেছে তালতলীর সর্বস্থরের মানুষ। তাই পূর্নাঙ্গ হাসপাতালের দাবিতে গত এক মাস ধরে উপজেলার মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ভার্চুয়াল মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর অভিযান ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সোমাবার সকাল ১১ টায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ১০টি স্থানে একযোগে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। উল্লেখ যোগ্য স্থানগুলো হল তালতলী সদর,পচাঁকোড়ালিয়া, ছোটবগী, কচুপাত্রা, লাউপাড়া, কড়াইবাড়িয়া, ফকিরহাট, বারঘর, শানুর বাজারও নিদ্রাসকিনা বাজারসহ ১০টি জনগুরুত্বপুর্ণ স্থানে অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে। মানববন্ধনে উপজেলাবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে উপজেলা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবী জানিয়েছেন।

তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ছোটবগী ইউপি চেয়ারম্যান মো. তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, পুর্নাঙ্গ হাসপাতালের কার্যক্রম না থাকায় উপজেলার আড়াই লক্ষ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাধারণ রোগ হলেও তালতলীবাসীর আমতলী, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বরিশালে যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দ্রæত পুর্নাঙ্গ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার দাবী জানাই।

তালতলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজবিউল কবির জোমাদ্দার বলেন, তালতলী বাসীর দুখ:দুর্দশা লাঘবের জন্য এখানে একটি পূর্নঙ্গ হাসপাতাল চাই। তিনি আরো বলেন উপস্থিত লোকের গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ও তালতলী উপজেলা উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (অতিরিক্ত) দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, ওই হাসপাতালের ছয় জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে পাঁচ জন চিকিৎসক প্রেষনে নিয়োগ দেয়া আছে। কিন্তু ওই হাসপাতালের নামে অর্থনৈতিক কোড নেই। কোড না থাকায় বরাদ্দ পাচ্ছি না। অর্থনৈতিক কোডের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, যন্ত্রাংশ না থাকায় পুর্নাঙ্গ হাসপাতালের কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।


Best bangla site

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *